দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার মধ্যে টানা নবম রাতের মতো ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার রাতে ইরানের বিভিন্ন শহরে একাধিক বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা কমিয়ে আনতেই সর্বশেষ এ হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের মাহশাহর ও ইমাম খোমেনি বন্দর এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এছাড়া দক্ষিণ উপকূলীয় হরমোজগান প্রদেশের সিরিক ও জাস্ক, বুশেহর প্রদেশের খোরমুজ এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজ শহরের কাছেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কোনারাক ও চাবাহার শহরে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক তোহিদ আসাদি জানান, সাম্প্রতিক উত্তেজনা শুরুর পর এবারই প্রথম তাবরিজে হামলার খবর পাওয়া গেল। একই সঙ্গে ইরানি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, লোরেস্তান প্রদেশ থেকে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।
এদিকে কুয়েত জানিয়েছে, তারা "শত্রুপক্ষের ড্রোন হুমকি" মোকাবিলা করেছে। বাহরাইনে দ্বিতীয়বারের মতো সাইরেন বেজেছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
কুয়েত সরকারের অভিযোগ, টানা দ্বিতীয় দিনের মতো একটি লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রে হামলা হয়েছে। এতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর সরাসরি আঘাত বলে উল্লেখ করেছে দেশটি।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়েও মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ কার্যকর করার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, মার্কিন সমর্থনপুষ্ট চারটি জাহাজ তাদের নির্দেশনা অমান্য করে "অনিরাপদ পথ" ব্যবহার করে প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করেছিল। এর মধ্যে দুটি ফিরে গেলেও বাকি দুটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, নৌ অবরোধ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং একটি জাহাজের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে উত্তর ইরাকে ইরানের একটি ভূপাতিত ড্রোনের অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ নিষ্ক্রিয় করার সময় আরও এক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর আগে জর্ডানে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং একজন নিখোঁজ হন। সব মিলিয়ে চলমান সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে। আহত হয়েছেন ৪২০ জনের বেশি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ সংঘাতে হাজারো মানুষের প্রাণহানি হয়েছে, যার বেশিরভাগই ইরান ও লেবাননের। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/